রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রামপাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন পারভেজ বেপারী মুন্সীগঞ্জের সিপাহীপাড়া থেকে চোরাই মোটরসাইকেলসহ ১ ভুয়া সাংবাদিক আটক  গজারিয়ায় নুরু মাল গংদের সম্পত্তিতে জোর করে বালু ভরাট লৌহজংয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে বলাৎকারের শিকার ছাত্র শ্রীনগরে জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করণ দিঘীরপাড় পোস্ট অফিসের ৫০ বছর বয়েসী পুরানো কালি কড়ই গাছের নিলাম  গজারিয়ায় বন্ধুর বাবাকে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা’র ৬৬তম জন্মবার্ষিকী  উপলক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা সভা গজারিয়ায় ভগ্নিপতির ছুরিকাঘাতে শ্যালক আহত গজারিয়ায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

কৈশোরকালীন পুষ্টি সচেতনতাই দিতে পারে আপনার সন্তানের সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা।

ডাঃ মোঃআল-রাব্বনীঃ- শৈশব এবং কৈশোর কালকে আমাদের মানসিক ও শারিরিক বিকাশের সোনালী সময় বলা যেতে পারে। কারো যদি শৈশবে এই বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়,তবে কৈশোরকালের সঠিক পুষ্টি সচেতনতা শৈশবের ঘাটতি পূরনে সহায়ক হতে পারে। কৈশোরকালীন সময়ে শারিরিক ও মানসিক বিকাশ দ্রুত ঘটে।এ বৃদ্ধি ১ থেকে ১৯ বছর সময় পর্যন্ত চলে। যদিও বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াটি অনেকটাই বংশগত – তবে সঠিক পুষ্টির ভুমিকা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) ২০১৭ অনুযায়ী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১.২ মিলিয়ন কিশোর-কিশোরী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী অর্থাৎ ৩ কোটি ৪৩ লক্ষ। এদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ (১কোটি ৬৭ লক্ষ) কিশোরী এবং ৫১ শতাংশ(১কোটি ৭৫ লক্ষ)কিশোর। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পুষ্টি সচেতন করে গড়ে তুলতে পারলে, ভবিষ্যৎতে অসংক্রামক

(ডায়াবেটিস,উচ্চ রক্তচাপ,স্টোক ইত্যাদি) রোগ শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। ১০-১৯ বছর সময়কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(WHO) মতে বয়সন্ধীকালও বলা হয়ে থাকে।এই সময় শারিরীক পরিবর্তনের সাথে সাথে আচার- আচরনেও অনেক পরিবর্তন ঘটে। ১০ থেকে ১৯ বছর সময়কে শারিরিক ও মানসিক পরিবর্তনের উপরে ভিত্তি করে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।১০ থেকে ১৪ এ সময়কে পরিবর্তনের প্রথম ভাগ বলা হয়।এ সময় কিশোর কিশোরী শারিরীক পরিবর্তন দ্রুত ঘটে।শারিরীক পরিবর্তনের এই ঘটনাটি মেয়েদের মধ্যে প্রথম দেখা যায়।১০ থেকে ১২ বছরে মেয়েদের উচ্চাতার পরিবর্তন ঘটে চোখে পড়ার মত।সাধারনত এই বৃদ্ধি ১৬ বছর সময় পর্যন্ত চলে। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে উচ্চতা বৃদ্ধির ঘটনাটি একটু দেরিতে ঘটে। যা শুরু হয় ১২ বছর বয়সে এবং বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি আঠারো(১৮) বছর বয়স পর্যন্ত চলে। ছেলেদের বৃদ্ধির প্রক্রিয়া টি একটু দেরিতে ঘটলেও ছেলেরা এক বা দুই বছরে উচ্চতায় মেয়েদের ছাড়িয়ে যায়। শারিরীক মানসিক পরিবর্তনের দ্বিতীয় ভাগ শুরু হয় ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সে।এ সময় কিশোর কিশোরীর আচার আচরণগত পরিবর্তন দেখা যায়।জীবনের এই সময়টায় সঠিক পুষ্টি এবং দিক-নির্দেশনা পেলে কিশোর কিশোরী ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর হয়।শারিরীক ও মানসিক বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়া টি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য তালিকা। যে খাদ্যে খাদ্য উপাদানের ছয়টি উপাদান বৃদ্ধমান থাকবে তাকে সুষম খাদ্য বলে। খাদ্যের ছয়টি উপাদান হল- ১। কার্বোহাইড্রেট বা, শর্করা জাতীয় খাদ্যঃ ভাত,রুটি, আলু,মিষ্টি আলু,গুড়,চিনি ইত্যাদি।এ জাতীয় খাবার আমাদের শরীরে শক্তি যোগাতে সহযোগিতা করে ২। প্রোটিন বা,আমিষ জাতীয় খাদ্যঃ মাছ,মাংস,ডিম,দুধও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য। এছাড়াও সব ধরনের ডাল,সয়াবিন,বাদাম,সীম, সীমের বীচি ইত্যাদি। আমিষ জাতীয় খাদ্য দেহের ক্ষয়পূরনে এবং বৃদ্ধিকারক হিসাবে কাজ করে। ৩। ফ্যাট বা,চর্বি (স্নেহজাতীয় খাদ্য):ঘি, মাখন, তেল, চর্বি ইত্যাদি খাদ্য হল স্নেহজাতীয় খাবার ।এ জাতীয় খাদ্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। ৪। মিনারেলস বা, লবন জাতীয় খাদ্যঃ এ জাতীয় খাদ্য হাড়ের গঠন,বুদ্ধির বিকাশ,গলগণ্ড রোগ থেকে মুক্তি ইত্যাদি কাজ করে থাকে।এ জাতীয় খাদ্য গুলো হল – ♦️ক্যালসিয়ামঃ দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য,গাড় সবুজ শাক-সবজি শুটকি মাছ,ছোট মাছ,গুড়,ছোলা ইত্যাদি। ♦️আয়রনঃ মাছ,মাংস, কলিজা, ডিম, কচু/পুই/লালশাক,তেতুল,কলা ইত্যাদি। ♦️আয়োডিনঃ সামদ্রিক মাছ,আয়োডিনযুক্ত লবন। জিংকঃ দুধ,মাংস, মসুর/ছোলার ডাল,রুপচাদা মাছ,ডিম, কাচকি মাছ ইত্যাদি। ৫।ভিটামিন বা, খাদ্যপ্রানঃ এ জাতীয় খাদ্য রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়, বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। এ জাতীয় খাদ্য গুলো হল – ♦️ভিটামিন-এ – গাজর, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, আম, লালশাক, সব রকমের সবুজ শাকসবজি, কড লিভার অয়েল, যকৃত, পালংশাক, রঙিন শাক-সবজি, চিজ, ডিম, পেঁপে, মটরশুঁটি ইত্যাদি। ♦️ভিটামিন-বিঃ
মাছ, যে কোনো রকমের সি ফুড, মাংস, শস্যদানা, ডিম,দুগ্ধজাত খাদ্য এবং সবুজ শাকসবজি।♦️ভিটামিন- সিঃকমলা, লেবু, স্ট্রবেরি, টমেটো, কাঁচামরিচ, ব্রকলি, ফুলকপি, গাজর, পেঁপে, আনারস, আঙুর, আম, জাম, আলু, তরমুজ, পেঁয়াজ, চেরিফল, পেয়ারা, কিশমিশ, লেটুসপাতা, বেগুন, ডুমুর♦️ভিটামিন-ডিঃ দুধ, মাছ, ডিমের কুসুম, যকৃত♦️ভিটামিন-ই- সবুজ শাকসবজি, ডিমের কুসুম, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, সূর্যমুখীর তেল, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, পাম অয়েল। ভিটামিন- কে-সবুজ শাক-সবজি, দুগ্ধজাত খাদ্য, ব্রকলি, সয়াবিন তেল, পুঁইশাক, বাঁধাকপি, পার্সলে, লেটুসপাতা, সরিষা শাক ইত্যাদি ৬। পানিঃ মানব দেহের প্রায় সকল কার্য সম্পূর্ন করতে পানির প্রয়োজন হয়। আমাদের চিকিৎসকেরা নিয়ম মেনে পানি পানের উপরে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতেও পানি কাজ করে।আপনার পুষ্টি সচেতনতাই নিশ্চত করবে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ। পুষ্টিকর খাবারের কথা শুনলেই আমরা চিন্তা করি, এ বুঝি দামী ও বিদেশি খাবারের তালিকা।আমাদের এ চিন্তা সঠিক নয়।দেশি এবং দামে সস্তা শাক সবজি এবং ফলমূল দিয়ে আমরা প্রতিদিনের সুষম খাদ্য তালিকা তৈরী করতে পারি।কিশোর কিশোরীর সুন্দর জীবনের চিন্তা করে আমাদের সন্তানদের ১০ থেকে ১৯ বছর অর্থাৎ কৈশরকালীন সময়ে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।তবেই আপনার আমার সন্তানের জীবন ও আগামী পৃথিবী হবে সুন্দর ও সুখকর।



ফেজবুক পেইজে লাইক দিন