রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রামপাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন পারভেজ বেপারী মুন্সীগঞ্জের সিপাহীপাড়া থেকে চোরাই মোটরসাইকেলসহ ১ ভুয়া সাংবাদিক আটক  গজারিয়ায় নুরু মাল গংদের সম্পত্তিতে জোর করে বালু ভরাট লৌহজংয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে বলাৎকারের শিকার ছাত্র শ্রীনগরে জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করণ দিঘীরপাড় পোস্ট অফিসের ৫০ বছর বয়েসী পুরানো কালি কড়ই গাছের নিলাম  গজারিয়ায় বন্ধুর বাবাকে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা’র ৬৬তম জন্মবার্ষিকী  উপলক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা সভা গজারিয়ায় ভগ্নিপতির ছুরিকাঘাতে শ্যালক আহত গজারিয়ায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

গল্প- হটাৎ একদিন- পর্ব-১

লেখক, আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ:
দশ বছরের সংসার জীবনে দুইটা সন্তান ও দৈহিক উষ্ণতা ছাড়া কিছুই দেয়নি লাবনির হাসবেন্ড। কখনো লাবনিকে নিয়ে ঘুরতে কিংবা সমুদ্র সৈকতে ভেজা কাপড়ে জড়িয়ে ধরা হয়নি, পার্কে বা কোন কফি হাউজে হাত রেখে বলা হয়নি তোমাকে আমি ভালবাসি। এমনকি হানিমুনে গিয়ে ব্যক্তিগত কামড়ায় সময় কাটানোর সময়ও হয়ে ওঠেনি তার হাসবেন্ডের। আজ লাবনির জম্মদিন উপলক্ষে, তাকে নিয়ে লং ড্রাইভে বের হয়েছে। গাড়ি চলছে হটাৎ গাড়ির সামনে একজন হুমড়ি খেয়ে পড়ল। জ্ঞান শূন্য লাবনির হাসবেন্ড গাড়ি থেকে নেমে অবাক! লোকটির মাথা থেঁতলে গেছে চেঁনার কোন উপায় নেই। সে মূর্তির মত দাড়িয়ে রইল, কিছু বুঝে ওঠার আগে লাবনি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে লাশের পাশে পড়ে থাকা ম্যানি ব্যাগ আর একটানে স্বামীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে বলল গাড়ি ছাড়ো। বাড়িতে ফেরার পর কোন কথা হয়নি ৩ ঘন্টা। রাত ১০টার সময় লাবনির হাসবেন্ড বলল ব্যাগটা কোথায় রাখছো, কোন কথা না বলে হাতের ইশারায় ব্যাগটি দেখিয়ে দিল। একি! লাবনি ব্যাগের মধ্যে শুধুমাত্র একটা কাগজ। লাবনি বলল দেখো লোকটার পরিচয় পাওয়া যায় কিনা। সে বলল মনে হচ্ছে লোকটার আত্মকথা। লাবনির অনুরোধে তার হাসবেন্ড পড়া শুরু করল।
হটাৎ একদিন তোর সাথে চলন্ত কোন যানবাহনে কিংবা রাস্তায় দেখা হবে, তুই আমাকে চিঁনতে পারবি না। আমি বলব কিরে আমাকে চিনতে পারলি না, আমি রাশেদ। এমন একটি দিনের জন্য অপেক্ষায় আছি ১০ বছর। জড়িয়ে ধরে ঠোটের উষ্ণতায় ছোয়ে দিতে কিংবা তোর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য না। তোর দিকে তাকিয়ে থাকব কিছুক্ষন অপলক দৃষ্টিতে, জীবনের শেষ কিছু কথা বলব তোকে। কিছু প্রশ্ন ছিল তোর কাছে। কথা বলবি তো আমার সাথে, উওর দিবিতো?।
তুই করে বললাম বলে রাগ করিস না। আমাদের সর্ম্পটা কিন্তু তুই দিয়েই শুরু হয়েছিল। পরে তুই থেকে তুমিতে পৌছাতে সময় লেগেছিল ৫ বছর, যেদিন তুই থেকে তুমিতে শুরু, সেদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলি অনেকক্ষন। আমার কাঁধের পেছনটা তোর চোখের পানিতে ভিজে গিয়েছিল। তোর চিকন কালো ঠোঁটের ছোয়ায় তৃপ্ত হয়েছিল আমার মন-প্রাণ। পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত  অতীত হৃদয়ে রক্তক্ষরন বাড়িয়ে দেয়, এমনিতে তোর শূন্যতায় এখন আমি নিঃস্ব, পার্থক্য শুধু আগে ছিলাম তোর ভালবাসায় আসক্ত আর এখন মাদকাসক্ত।
মাদকাসক্ত বলে ঘৃণা করিস না। নেশাটা করি তরে ভুলার জন্য। বিশ্বাস কর মাদকের আসক্তি একটুও ভুলাতে পারেনি বরং নেশার ঘোরে তোকে নিয়ে বকুল তলায় যাই, কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকি, তোর হাত বুলানোর ছন্দে, বকুল ও তোর মেঘকালো চুলের গন্ধে ঘুমায় শান্তিতে। মাদক আমার দেহ ও হৃদয়ের কোন স্থান থেকেই তোকে ছোয়ার অনুভূতি কিংবা তোর শরীরের গন্ধ ভুলাতে পারেনি।
আমার প্রিয় রং কালো। তাই ইচ্ছে করেই নেশার অন্ধকার কালো জগৎ থেকে ফিরলাম না। কালো ভুলব কি করে বল?। আমিতো তোর কালো চামড়া, চুল আর সর্বনাশা কালো চোখেই মরেছি। তোর বাম গালের কালো তিলটা নেশার মধ্যেও এখনো আমাকে ঘুমাতে দেয় না। যদি সম্ভব হয়, আমার শেষ ইচ্ছেটা পূরণ করিস। আমি মারা গেলে, তুই এসে কালো কাপড় দিয়েই আমার দাফনের ব্যবস্থা করিস। জানি তুই আসবি না।
আজ আমি বড় অসহায়। কান্না করার জন্যও আমার কেউ নেই। অথচ তোর জন্য যা করেছি, তার অর্ধেক করলেও সৃষ্টিকতার্কে পেতাম। তুই ছেড়ে চলে যাওয়ায় উপকার হয়েছে আমার। চোখের পানি বিদায় নিয়েছে আমার জীবন থেকে। শুধুমাত্র যেদিন তোর বিয়ে সেদিন সারারাত কেঁদেছিলাম। তুই বিশ্বাস করতে পারবি না, আমার বাবা-মায়ের মুত্যুর সময়ও আমার চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি পড়েনি। চোখ নষ্ট হলেই বা কি?, চোখ বুঝলেই দেখতে পাই তোকে। মাদকের ঝাঁজে হৃদয় থেকে তোর ছবিটা মুছে গেলে মরেও শান্তি পেতাম।
একি! লাবনি বাকি লেখা গুলো কোথায়?। লেখাটা আমায় নেশা ধরিয়ে দিয়েছে,  তোমার দিকে তাকানোর কথা ভূলেই গেছি। একি! তুমি কাঁদছো কেন?। লাবনির কি করে বলবে রাশেদ তারই ফেলে আসা জঞ্জাল। বাকিটা জানতে না পাড়লে আমি শান্তি পাব না, আমি লাশের খবর নিতে গেলাম, বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল লাবনির হাসবেন্ড।                                                                                                                      চলবে…



ফেজবুক পেইজে লাইক দিন