রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রামপাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন পারভেজ বেপারী মুন্সীগঞ্জের সিপাহীপাড়া থেকে চোরাই মোটরসাইকেলসহ ১ ভুয়া সাংবাদিক আটক  গজারিয়ায় নুরু মাল গংদের সম্পত্তিতে জোর করে বালু ভরাট লৌহজংয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকের কাছে বলাৎকারের শিকার ছাত্র শ্রীনগরে জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করণ দিঘীরপাড় পোস্ট অফিসের ৫০ বছর বয়েসী পুরানো কালি কড়ই গাছের নিলাম  গজারিয়ায় বন্ধুর বাবাকে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা’র ৬৬তম জন্মবার্ষিকী  উপলক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা সভা গজারিয়ায় ভগ্নিপতির ছুরিকাঘাতে শ্যালক আহত গজারিয়ায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

গল্প- হটাৎ একদিন- পর্ব-২

গল্প- হটাৎ একদিন- পর্ব-২

লেখক, আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ:

জীবনের প্রতিটা অধ্যায় স্মৃতির ব্যানার, হঠাৎ যর্ন্তনার বাতাসে নড়েচড়ে উঠে, রাশেদের আত্মকাহিনী অভির জীবনের ব্যানারটাকে ওলট-পালট করে দিয়েছে। কষ্ট যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন মানুষ কাঁদে না চুপ হয়ে যায়। অভি বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় হাটছে নিঃশব্দে। কি করবে কোথায় যাবে কিছুই বুঁঝতে পারছে না। মনের তীব্র ব্যথা কমানোর উপায় হচ্ছে কিছু লেখা, যে লেখা দুংখকে ছড়িয়ে দেয় সবদিকে। কিন্তু অভির ভাগ্য খারাপ। সে রাশেদের মত তার কষ্ট গুলো লিখতেও পারছে না। কারন এই মুহুর্তে সে রাস্তায়, তাছাড়া কষ্ট গুলোকে কাগজে রুপ দেওয়ার যোগ্যতা কিংবা দক্ষতা কোনটাই নেই তার। অভির পরিচয়টা দেওয়া হলো না, অভি হচ্ছে লাবনির হাসবেন্ড।

বিশ্বস্ত বন্ধু দুঃখ-কষ্ট ও গোপনীয় বিষয় জমা রাখার সিন্দুক। অভি তার বন্ধু সবুজকে ফোন দিয়েছে। প্রায় আধাঘন্টা পর সবুজ এসে জিজ্ঞেস করল, কিরে দোস্ত তুই এত রাত্রে কি ব্যাপার? ভাবির সাথে ঝগড়া হইছে নাকি?। সবুজের কাছে সব বলতে ধিদ্বা নেই, তাই দূর্ঘটনার শুরু থেকে সব কিছুই খুলে বলল অভি। সবুজ বলল লাশের খবর নিতে জেলা সদর হসপিটালে গেলে তাড়িতাড়ি খোঁজ পাওয়া যাবে। তারা দুইজনে গাড়িতে ওঠল জেলা সদর হসপিটালের উদ্দেশে।

দোস্ত একজন অপরিচিত নেশা খোঁরের গল্প জেনে লাভ কি? অভিকে প্রশ্ন করল সবুজ। অভি মিথ্যে হাঁসির মাধ্যমে প্রশ্নটা এড়িয়ে গেল। প্রতিটা মিথ্যে হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকে, অতীত নামক একটা বিচ্ছিরী যর্ন্তনার গল্প, অভিরও আছে কিন্তু বলা হয়নি কখনো। কিছু কষ্ট সহ্য করা যায় না, কিছু ব্যথা বুকে চেপে রাখা যায় না। দোস্ত তর কাছে আজ কিছু কথা বলব যা কাউকে বলা হয়নি, এই কথা বলে অভি তার যর্ন্তনার গল্পটা বলতে শুরু করল।

আমার জীবনের মাত্র ৬ মাসের প্রেম আমাকে এখনো কাঁদায়, বুকের বাম পাশে মাঝে মাঝেই ব্যথা অনুভব করি, রাতে র্নিঘুম রাত কাটাই। তার ঠোটের কোণার একটা তিল প্রতিনিয়ত যর্ন্তনার আগুনে ঝলসে দেয় আমার হৃদয়। আমি তখন দশম শ্রেনীতে পড়ি, এসএসসি পরীক্ষার মাত্র ৩ মাস বাকি। আমি রুপার চোখের প্রেমে পড়লাম, তার মায়াবী দু’চোখে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। যে কখনো চোখের প্রেমে পড়েনি! সে বুঝবে না, কারণ মানুষের সমস্ত মায়া থাকে দু’চোখে। ভালবাসার চেয়েও মায়া কঠিন জিনিস, ভালবাসা ছেড়ে মানুষ ২০ বছরের সংসার ফেলে চলে যেতে পারে! কিন্তু ৬ মাসের মায়ায় পড়ে সারাজীবন রুপার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে পড়ে আছি, মায়া অবিনশ্বর ও চিরন্তন। মায়া খুব খারাপ জিনিস না দেয় ভাল থাকতে, না দেয় ভুলে থাকতে। আমি তার সুন্দরের কাছে সব হারিয়ে ছিলাম। যে সুন্দর হাতে ছোয়া যায় না, চোখে দেখা যায় না, একমাত্র হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয়।

রুপালি আমার সহপাঠী। আমি ভালবাসার কাঁচি দিয়ে রুপালি নাম কেঁটে রুপা করে নিয়েছিলাম। একসাথে পড়লেও আমি কোনদিন তাকে ভাল করে চেয়েও দেখিনি। কিন্তু যেদিন ওর চোখে চোখ পড়ল, সেদিন আমার উপর প্রেতআত্মা ভর করল। কারণ সতিকারের ভালবাসা প্রেতআত্মার মতই, যা সবাই দেখা পায় না। আমি যেদিন রুপাকে আমার ভালবাসার কথা জানিয়ে ছিলাম, ও রেগে কিছু না বলেই চলে গিয়েছিল। যে রাগের সঙ্গে সামান্য ভালবাসা মেশানো থাকে, সেই রাগ মেয়েদের রুপকে বাড়িয়ে দেয়। তার সেই রুপ আমাকে আরো বেশি বিভোর করেছিল তার প্রেমে। আমার পাগলামী আর অনুভূতি গুলোকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার পক্ষে, অবশেষে রুপা তার হৃদয়ের ধুকধুকানী গুলো আমাকে দিয়েছিল।

এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে আমাদের যর্ন্তনা আরো বৃদ্ধি পেল। আমাদের কথা বলা, দেখা করা সবই বন্ধ হলো। ভালবাসার আরেক নাম অপেক্ষা, অপেক্ষা মৃত্যুর যর্ন্তনার চেয়েও কঠিন। অপেক্ষা শেষ হলো আমাদের রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার দিন। আমরা দুইজনে সেদিন প্রথম ও শেষ ঘুরতে বের হয়েছিলাম। রুপা যখন বাসায় ফিরে তখন তার বাড়িতে তার পরীক্ষায় পাশের খবরে পুরস্কৃত না হয়ে, একটি ছেলের সাথে ঘুরতে বের হওয়ার অপরাধে দন্ড পেয়েছিল। তার প্রতিবেশী একজন মহিলা তাকে একটি ছেলের সাথে ঘুরতে দেখে বাড়িতে জানিয়েছিল। আমাদের দেশের মা-বাবার কাছে তাদের মেয়েদের লাশের চেয়ে প্রতিবেশীদের কথার ওজন বেশি।

আমাদের সমাজে সাদা চামড়ার মেয়ে ও টাকা ওয়ালা বয়স্ক ছেলেদের বিয়ের সমস্যা হয় না। তাই রুপার বিয়ে ঠিক হতেও কোন সমস্যা হলো না। বিয়ের আগের দিন রুপা পালিয়ে এলো আমার কাছে বলল চলো পালিয়ে যায়। কিন্তু আমি চুপ করে রইলাম। সব নিরবতা সম্মতির লক্ষন না, কিছু নিরবতা মাঝে মাঝে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। আমি তাকে বলতে পারিনি একজন দশম শ্রেনীর মেয়ের বিয়ে দেওয়া গেলেও দশম শ্রেনী পাশ করা ছেলে বিয়ে করার কোন যোগ্যতাই নেই। রুপার ভালবাসা বহন করার ক্ষমতা বা তাকে নিয়ে পালাবার সাহস আমার ছিল না। তাকে বলতে পারিনি আমাদের সম্পর্কটা ভুল সময়ে হয়েছে। মানুষের জীবন বড় অদ্ভুত যখন প্রেম করার জন্য মন বাকুম বাকুম করে তখন প্রেম করার সঠিক বয়স না। আবার যখন দায়িত্ব নেওয়ার মত যোগ্যতা তৈরি হয় বা প্রেম করার উপযুক্ত সময় হয় তখন মানুষের প্রেম করার মানসিকতা থাকে না। আমার নিরবতা তাকে বাধ্য করেছিল ফিরে যেতে।

প্রেমে পড়া মানে নির্ভরশীল হয়ে পড়া। যার প্রেমে পড়ে সে জীবনের বড় একটা অংশ দখল করে নেয়। কোন কারনে ছেড়ে চলে গেলে জীবনের ঐ বিরাট অংশটাও নিয়ে যায়। তখন প্রেমে পড়া মানুষটি হয়ে যায় শূণ্য জগতের বাসিন্দা। শূন্য জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা অর্থহীন মনে হয়।

রুপা বিয়ের দিন দুপুরে বিষ খেয়েছিল…

চলবে….



ফেজবুক পেইজে লাইক দিন