mous">
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু

তুষার আহাম্মেদ-  গতকাল  মহালয়ার মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে সকাল থেকেই। এ দিন শ্রী শ্রী চণ্ডী পাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। আর এই ‘চণ্ডী’তেই আছে দেবী দুর্গার সৃষ্টির বর্ণনা। শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো মহালয়া।
সমগ্র জেলায় মন্দিরে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ শুরু হবে। হিন্দু পুরাণমতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। এ দিন থেকেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়। মহালয়া মানেই আর মাত্র ৬ দিনের প্রতীক্ষা দুর্গা পূজার। আর এই দিনেই দেবীর চক্ষুদান করা হয়।
করোনার প্রাদুর্ভাব কমায় এবার উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। তবে করোনা সংক্রমণ এড়াতে গত বছরের মতো এবারও সব মণ্ডপে বাড়তি সতর্কতা থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবে পূজা অর্চনা। জেলার ৩২১ টি পূজামণ্ডপে গতকাল  সকাল ৬টায় মহালয়ার ঘট স্থাপন এবং সকাল ৯টায় বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
দেবী দুর্গার আগমনে বিভিন্ন মণ্ডপে ধূপের ধোঁয়ায় ঢাক-ঢোলক, কাঁসর, পুরোহিতের ভক্তিকণ্ঠে ‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেন সংস্থিতা-নমস্তৈস্য নমস্তৈস্য নমঃ নমঃ’ মন্ত্র উচ্চারণে কৈলাস ছেড়ে মা দুর্গা পিতৃগৃহে আসবেন ঘোড়ায় চড়ে, আর ফিরে যাবেন দোলায় বা পালকিতে।
পঞ্জিকা মতে, পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব আগামী ১১ অক্টোবর সোমবার ষষ্ঠীতে দশভুজা দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। প্রতিবছর ষষ্ঠীর আগে পঞ্চমীর দিন সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনধ্বনি অনুরণিত হলেও এবার তা হচ্ছে না। পঞ্চমী ও ষষ্ঠী তিথি একই দিনে পড়ায় দুই দিনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান একই সঙ্গে উদযাপিত হবে।
বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গা সমস্ত অশুভ শক্তি বিনাশের প্রতীক রূপে পূজিত। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস।
পুরাণমতে, মহালয়ার দিনে, দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনও মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলত অসীম হ্মমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতারিত করে এবং বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের অধীশ্বর হতে চায়।
ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সন্মিলিত ভাবে ‘মহামায়া’ এর রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করলেন এবং দেবতাদের দশটি অস্ত্রে সুসজ্জিত সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা নয় দিনব্যাপি যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করে ।
মহালয়ার আর একটি দিক হচ্ছে এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপুরুষের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন। সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়। প্রয়াত আত্মার যে সমাবেশ হয় তাকে মহালয়া বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষের ও শেষদিন এটি ।



ফেজবুক পেইজে লাইক দিন