রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মুন্সীগঞ্জে ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ ০৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ এপেক্স ক্লাব শ্রীনগরের ফল উৎসব পালিত লেখক ও সাংবাদিক ফোরামের আয়োজনে ঈদ পূর্ণমিলনী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে টঙ্গীবাড়ীতে কুড়ালের কোপে বৃদ্ধ নিহত,গ্রেপ্তার ২ গজারিয়ায় তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যা:চার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিশু রামিসার কবর জিয়ারতে দুই এমপি, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২৫৪তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে জাতীয় শিক্ষা পদক পেলেন মো: জাহাঙ্গীর হোসেন  বড় ভাইকে হত্যার ঘটনায় ছোট ভাই গ্রেপ্তার সরকারি গাছ কেটে ব্রীজ নির্মাণ, ইউপি সদস্যের পক্ষে এলাকাবাসীর সমর্থন!
গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় হালিমাকে

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিখোঁজের চার দিন পর নদী থেকে উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ হালিমা আক্তার (১৯) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সংস্থাটির ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় হালিমাকে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা।

তারা জানায়, গত ২৯ মে গজারিয়া উপজেলার ফুলদী নদী থেকে সালোয়ার দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক তরুণীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি গজারিয়া উপজেলার জামলদী (হোসেন্দী) গ্রামের মহসিন বেপারীর মেয়ে হালিমা আক্তার।

এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে ৩০ মে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকার আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) ও আলামিন প্রধান (৫০)।

পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছেন, হালিমার কাছে আবু কালামের প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের ১০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। এ ছাড়া জামাল হোসেনের সঙ্গে হালিমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে গজারিয়ার হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতরে বৈঠক করে হালিমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় অভিযুক্তরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে হালিমাকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে নৌকাযোগে নদী পার করে বড় ভাটেরচর এলাকার একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর পরনের টাইটস গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহের হাত-পা বেঁধে ফুলদী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি গোপন রাখা যায় এবং আলামত নষ্ট হয়।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রাইম সিন পরিদর্শন এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার চার আসামিই আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Theme Created By ThemesDealer.Com